আজ- শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: মোদি সরকার

by Prokash Kal
views

প্রকাশকাল ডেক্সঃ ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়টি জানানো হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার পাঠানো অনুরোধ দেশটির প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মানবিক নীতি এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে ভারত কঠোরভাবে এ নীতি অনুসরণ করছে যে, তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সুপারিশ

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ভারত সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য আবারও পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।

গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আহ্বান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা। এ কারণে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির মতে, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহতভাবে বিবেচনায় রাখা উচিত।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: