
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ও দৃশ্যমান পুলিশি টহল আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে এএসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিট পুলিশিং কার্যক্রম ও জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন পুলিশ কমিশনার। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
সভায় থানা এলাকায় চলমান বিট পুলিশিং কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, জনগণকে দ্রুত, কাঙ্ক্ষিত ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা দিতে হবে। পুলিশের প্রতিটি কার্যক্রমে পেশাদারত্ব, দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জমি বা জায়গা দখলসংক্রান্ত বিরোধে পুলিশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। বিভিন্ন অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ও তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে মালামাল রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হকার ও দোকানদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া রাত ১০টার পর আবাসিক এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার।
মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সেবাপ্রত্যাশী মানুষের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি)-এর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম, উপপুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপপুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
