আজ- সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজের অনিয়মের জবাব না দিয়ে এলজিইডি প্রকৌশলী বললেন ‘মামুন ভাই টাকা দেয়নি’

by Prokash Kal

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সইপারা থেকে গোল্লাপাড়া পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৫০ মিটার রাস্তা পাকা করার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দুই বছর মেয়াদের ৯ মাস পার হয়ে গেলেও কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। উল্টো নিচু মানের উপকরণ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ চালানোর অভিযোগ করছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজে নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত কমদামী ও নিম্নমানের ইট। অনেক জায়গায় ইটের খোয়ার বদলে ইট-পাথরের গুঁড়া ও রাবিশ দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এভাবে কাজ চললে কিছুদিন যেতে না যেতেই রাস্তাটি আবার ভেঙে চুরে একাকার হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর ভেরিপাড়া মোড়ের ঠিকাদার মামুনের ম্যানেজার শামীমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি একপ্রকার স্বীকার করেই বলেন, “জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি, চাইলেই এত দামী জিনিস দিয়ে কাজ করা যায় না। তারপরেও চেষ্টা করবো ভালো জিনিস দেওয়ার।”

পরবর্তীতে ঠিকাদার মামুনের বক্তব্য নিতে রাজশাহীর ভেরিপাড়া মোড়ে অবস্থিত তাঁর কার্যালয়ে যান এই প্রতিবেদক। সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও মামুনের সহযোগীরা সাংবাদিকদের নিয়ে একের পর এক কুরুচিপূর্ণ ও বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে মামুনের এক সহযোগী ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেন, “ওসব ৪ আনার সাংবাদিক দিয়ে কি হবে? আমরা ঠিকাদাররাও খুব খারাপ।” বক্তব্য সংগ্রহ শেষে প্রতিবেদক বেরিয়ে আসতে চাইলে তাঁরা নগদ অর্থ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার (ম্যানেজ করার) চেষ্টা চালান।

দুর্নীতির এই জালে ঠিকাদারের পাশাপাশি জড়িত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তরেরও। মোহনপুর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিপন আলী সরকারের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ঘুষের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আপনি তো গেছিলেন মনে হয় মামুন ভাই টাকা দেয়নি? আমিতো বলে দিছিলাম টাকা দেওয়ার জন্য।”

সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে তিনি ঠিকাদারকে টাকা দেওয়ার পরামর্শ দেন এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাবে আবার সশরীরে তাঁর অফিসে যাওয়া হলে বাঁধ সাধে নতুন নাটকীয়তা। তিনি মোহনপুর প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে অফিসে ডেকে আনেন এবং উক্ত অনিয়মের সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিবেদককে মোটা অঙ্কের টাকার অফার দেন।

সরকারি প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় এবং ঠিকাদার ও কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য অনৈতিক প্রস্তাবের পর সইপারা-গোল্লাপাড়া এলাকার চরম ক্ষুব্ধ জনতা অবিলম্বে এই কাজের সঠিক তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: