
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) রাজপাড়া, চন্দ্রিমা ও কাটাখালী থানা পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী ও তিন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজপাড়া থানা পুলিশ নগরের সিএন্ডবি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন মতিহার থানার কাজলা (ধরমপুর) গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে বন্ধন ওরফে ফাহিম হোসেন ওরফে বন্ধন (২০), দুর্গাপাড়া গ্রামের রনির ছেলে রিফাত হোসেন (২২) এবং পাঁচানী মাঠ গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে সোহান আলী (১৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার রিফাতের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা রয়েছে।
এর আগে একই রাতে সোয়া ১০টার দিকে ডিঙ্গাডোবা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসমাউল সিফাত (২১) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে রাজপাড়া থানা পুলিশ। তার কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, ২৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ মেহেরচন্ডী পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে অনিক (২৪)-কে গ্রেপ্তার করে। তার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা সাতটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা রয়েছে।
এদিকে, ২৮ আগস্ট বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কাটাখালী থানা পুলিশ বেলঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অভিযান চালিয়ে মতিউর রহমান মতিন (৩৩)-কে মাদক সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি ফয়েল পেপার ও একটি গ্যাস লাইটার জব্দ করা হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
এ ছাড়া একই দিন রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজপাড়া থানা পুলিশ কাজীহাটা ঘোষপাড়া ঘোড়াডোবা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদেকুল ইসলাম (২৬) ও শফিকুল ইসলাম (৪০)-কে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত একটি কলকি, একটি কেঁচি ও একটি লোহার কাটনী জব্দ করা হয়। পরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সাদেকুলের বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় একটি মাদক ও একটি পেনাল কোড আইনের মামলা রয়েছে। শফিকুলের বিরুদ্ধেও একই থানায় একটি মাদক ও একটি পেনাল কোড আইনের মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
