আজ- বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে জেলেদের সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

by Prokash Kal

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক জেলেকে ৩৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। একই সঙ্গে ট্যাগ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের অভিযোগ করেছে

সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ৭৬০ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেকের জন্য ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। সে হিসাবে মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় ৬০ হাজার ৮০০ কেজি। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী জনপ্রতি ৩৫ কেজি করে দেওয়া হলে প্রত্যেক জেলে ৪৫ কেজি করে কম পান। ৭৬০ জনের ক্ষেত্রে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ২০০ কেজি বা ৩৪ দশমিক ২ মেট্রিক টন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাছের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস সুন্দরবনে পাস-পারমিট বন্ধ থাকায় নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এ সময়ে জেলেদের সহায়তার জন্য মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৭৬০ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেকের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে বরাদ্দের চাল পাস-পারমিট বন্ধের সময় বিতরণের কথা থাকলেও গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ শুরু হয়।
চাল নিতে আসা কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, বরাদ্দের ৮০ কেজির পরিবর্তে তাদের ৩৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদের জানানো হয়, বরাদ্দের চাল কম এসেছে। ফলে একজনের বরাদ্দের চাল দুইজনকে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলে মো. আফছার আলী তরফদার, মো. রফিকুল ইসলাম ও শফিকুল শেখ বলেন, “আমাদের ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু ৩৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, চাল কম এসেছে। আমরা সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী পুরো চাল চাই।

জেলে আলমগীরের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের পাশাপাশি অন্য পেশার লোকজন এবং চেয়ারম্যানের আত্মীয়-স্বজনদেরও চাল দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাজল সরদারের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে চাল বিতরণের কথা থাকলেও গত শনিবার সরকারি ছুটির দিনে ট্যাগ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্যানেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পল্টুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জেলেরা।

ট্যাগ কর্মকর্তা মিনা হাবিব বলেন চেয়ারম্যান আমাকে চাল বিতরণের জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় এবং আমি অসুস্থ থাকায় উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে আমি বলে দিয়েছি, কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না হয়। অনিয়ম হলে এর দায় চেয়ারম্যানকে নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলছি।
‘চাল কম দেওয়ার সুযোগ নেই’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান বলেন, ৭৬০ জন বিএলসি ও মৎস্য কার্ডধারী জেলের জন্য জনপ্রতি ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ অনুযায়ী চাল বিতরণ করতে হবে। চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চেয়ারম্যান চাল কম দিয়ে থাকলে বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে আলোচনা করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আমরা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছি এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখেছি। সেখানে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে আমার মনে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পল্টুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে স্থানীয় জেলেরা বলছেন, সরকারি সহায়তার চাল তাদের জন্য দুর্দিনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। তাই বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে সঠিক পরিমাণ চাল বুঝিয়ে দেওয়া এবং চাল বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা বরাদ্দ কম দেওয়ার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: