আজ- মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হয়রানি ছাড়া অভিযোগ ও জিডি দ্রুত গ্রহণে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ

by Prokash Kal

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) থানাগুলোতে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়রানিমুক্তভাবে দ্রুত গ্রহণ এবং পুলিশি সেবা আরও জনবান্ধব করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে থানায় কর্মরত জুনিয়র সেরেস্তা (সহকারী উপপরিদর্শক-এএসআই) ও কনস্টেবল (কম্পিউটার অপারেটর)দের নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় থানাগুলোর চলমান পুলিশি কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার বলেন, “জনগণকে দ্রুত, কাঙ্ক্ষিত ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে হবে।” পুলিশের প্রতিটি কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব আচরণ বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, জমি-জমা বা জায়গা দখলসংক্রান্ত বিরোধে পুলিশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। বিভিন্ন অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) যথাযথভাবে গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে মালামাল রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হকার ও দোকানদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। একই সঙ্গে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে থানা এলাকায় নিয়মিত ও দৃশ্যমান পুলিশি টহল আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া রাত ১০টার পর আবাসিক এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের জন্য এএসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার।

সভায় থানায় কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর (কনস্টেবল)দের কম্পিউটার-সংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের বিষয়েও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ আরএমপির অন্যান্য কর্মকর্তারা।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: