আজ- বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিষ্ণুপুর ফেরিঘাটের টোল পুনর্নির্ধারণের আবেদন, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ইজারাদার

by Prokash Kal

রাজশাহী প্রতিনিধি:
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নিয়ন্ত্রণাধীন বিষ্ণুপুর ফেরিঘাটে এখনো কার্যকর রয়েছে প্রায় ১০ বছর আগের টোল ও মাশুলের তালিকা। এতে বর্তমান পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে টোল আদায়ের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চলতি বছরের ইজারাদার মো. মোসাদ্দাত হোসেন (তুহিন)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী নগরীর রাজারহাত এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
মোসাদ্দাত হোসেন জানান, বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ১৮ লাখ ৫ হাজার ৫৫৫ টাকা সর্বোচ্চ দর দিয়ে বিষ্ণুপুর ফেরিঘাট ইজারা নেন তিনি। তবে ইজারা নেওয়ার পর জানতে পারেন, ঘাটে যাত্রী ও মালামাল পারাপারের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলা ১৪২৩ বঙ্গাব্দের তালিকা অনুযায়ী। তাঁর দাবি, দরপত্রের সঙ্গে যাত্রী পারাপারের বর্তমান টোলের তালিকাও দেওয়া হয়নি। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ইজারাদারের অভিযোগ, গত এক দশকে জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি ও ঘাট পরিচালনার অন্যান্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু টোলের হার অপরিবর্তিত থাকায় ইজারামূল্য, কর-ভ্যাটসহ সরকারি পাওনা পরিশোধ করে ঘাট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টোল পুনর্নির্ধারণের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর রাসিক প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীর টোল ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা, মালামালসহ যাত্রী পারাপার মণপ্রতি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা, গরু-মহিষ ৪০০ টাকা, ছাগল-ভেড়া ৬০ টাকা, আরোহীসহ রিকশা ও মোটরসাইকেল ৩০ টাকা এবং মাছের ঝোলা ৩০ টাকা নির্ধারণসহ অন্যান্য টোল যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ১ মে রাসিকের পক্ষ থেকে দেওয়া এক চিঠিতে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ইজারামূল্যের ওপর ১০ শতাংশ আয়কর বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৫৫ টাকা ৩০ পয়সা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৩২ টাকা ৯৫ পয়সা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইজারাদার মোসাদ্দাত হোসেন বলেন, একদিকে ইজারামূল্য ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধের চাপ রয়েছে, অন্যদিকে ঘাট পরিচালনার প্রধান আয়ের উৎস টোলের হার প্রায় এক দশক ধরে অপরিবর্তিত। ফলে বর্তমান টোলের হারে ঘাট পরিচালনা করলে তাঁকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রাসিকের সচিব সোহেল রানা বলেন, টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সময় টোলের হার সম্পর্কে জেনেই ইজারাদার ঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে যে টোল তালিকা কার্যকর রয়েছে, সেটি প্রায় ১০ বছর আগের।
সোহেল রানা আরও বলেন, টোল বৃদ্ধির বিষয়ে ইজারাদারের আবেদন রাসিক গ্রহণ করেছে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: