
মোঃ শাহান আলী, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘ড. এম এ মতিন স্মৃতি পানসি নৌকাবাইচ-২০২৬’-এর জমজমাট ফাইনাল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে কৈবর্তগাতি একতা এক্সপ্রেসকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বন্যাকান্দি নিউ একতা চ্যালেঞ্জার। নদীর বুকে দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই উপভোগ করতে করতোয়া নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো দর্শক। ঢাকঢোল, করতালি ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় শাহজাদপুর উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের করতোয়া নদীতে এ ফাইনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত। প্রতিযোগিতা শেষে তিনি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার হিসেবে যথাক্রমে ১১০ সিসি ও ১০০ সিসির দুটি মোটরসাইকেল তুলে দেন।
ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ নদীর তীরে ভিড় করেন। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ পানসি নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী স্থপতি ফাহমিদা মুহিত, তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল মামুন, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরিদুল ইসলাম এবং শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন হিরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল জব্বার, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াছিন আলী, কৃষক দলের সভাপতি আবু বকর রঞ্জু, স্বেচ্ছাসেবক দলের তারিকুল ইসলাম, সাকিক চৌধুরী, হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল মিয়া, হাজী মনিরুজ্জামান মনি, ছাত্রদলের সাব্বির, নৌকাবাইচ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল হোসেন ও রাজু আহমেদ জুয়েল, বাদশা সরকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালে দুই দল। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৪টায় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে চারটি টান অনুষ্ঠিত হয়। এতে পদ্মা এক্সপ্রেস ও নবশক্তি ফাইটার, আল মদিনা ও নলুয়া একতা চ্যালেঞ্জার, কৈবর্তগাতি ও সোনার বাংলা এবং মায়ের দোয়া ও বন্যাকান্দি দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সেমিফাইনালের লড়াই শেষে কৈবর্তগাতি একতা এক্সপ্রেস ও বন্যাকান্দি নিউ একতা চ্যালেঞ্জার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
পরে ফাইনালে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। শেষ পর্যন্ত কৈবর্তগাতি একতা এক্সপ্রেসকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয় বন্যাকান্দি নিউ একতা চ্যালেঞ্জার। বিজয়ী দলের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। রানার্সআপ দলকেও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ঐতিহ্য ধরে রাখতে নৌকাবাইচের আয়োজন
আয়োজকেরা জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের সংস্কৃতি ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এমন আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত করে তোলে
