
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুবাই পাঠানোর কথা বলে জাল ভিসা ও টিকিট দেওয়ার মাধ্যমে ১০/১৫ জনের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন ভুক্তভোগী সাতক্ষীরার আদালতে মামলা করেছেন ও শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত গৌতম কুমার মন্ডল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের যতীন্দ্রনগর এলাকার হরিপদ মন্ডলের ছেলে ও দুবাইপ্রবাসী। অভিযোগে তাঁর বোন সীমা সরকার, বোনের জামাই রবিন সরকার এবং মা কল্যাণী মন্ডল ও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে ছোটভেটখালি গ্রামের কামাল হোসেন গাজি দুবাই যাওয়ার আশায় ধারদেনা করে গৌতম মন্ডলকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। একইভাবে সাগর হোসেন দেন ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. আদম আলী গাজীর ছেলেকে দুবাই পাঠানোর কথা বলে নেওয়া হয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের আরিফ হোসেনের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৪ লাখ টাকা।
কামাল হোসেনের বলেন, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ও বাড়ি থেকে কয়েক দফায় টাকা নেওয়ার পর তাঁকে একটি ভিসা দেওয়া হয়। সেটি নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরে গেলে কর্তৃপক্ষ ভিসাটি জাল বলে তাঁকে আটকে দেয়। পরে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি। এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরার আদালতে মামলা করেছেন।
গ্রাম পুলিশ আদম আলী গাজী জানান, তাঁর ছেলেকে দুবাই পাঠানোর কথা বলে গৌতম মন্ডল ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা নেন। এ ছাড়া রবিন সরকার তাঁর বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। পরে গৌতম যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তিনি শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
সাগর হোসেন বলেন, ব্যাংক হিসাব এবং গৌতমের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া ভিসা নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরে গেলে সেটি জাল বলে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনিও মামলা করেছেন। তিনি বলেন, “ধারদেনা করে বিদেশ যাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন টাকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান
চাঁদপুরের আরিফ হোসেন জানান কিস্তিতে টাকা তুলে গৌতমকে ৪ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। জাল ভিসা দেওয়ায় তাঁর বিদেশযাত্রা হয়নি। বর্তমানে কিস্তির চাপে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর রহমান, আকবর গাজী, কবির হোসেন ও সত্যজিৎ তরফদার জানান, দুবাই পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং জাল ভিসা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা অবগত হয়েছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযুক্ত গৌতম মন্ডল বর্তমানে দুবাইপ্রবাসী হওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সীমা সরকার, রবিন সরকার ও কল্যাণী মন্ডলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
