
নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী:
রাজশাহী মহানগরীর চারটি থানার পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, গাঁজা ও দেশীয় তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এসব অভিযানে নারীসহ চারজন মাদক ব্যবসায়ী ও একজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
আরএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার চন্দ্রিমা, কর্ণহার ও দামকুড়া থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে মতিহার থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজা সেবনের অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ শিরোইল কলোনি পশ্চিমপাড়া (কানার মোড়) এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মো. আসলামের স্ত্রী মোসা. মাজেদা বেগমকে (৫৩) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ২৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাজেদা একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় আটটি এবং চন্দ্রিমা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
একই দিন রাত সোয়া ৯টার দিকে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ আসাম কলোনির বউ বাজার এলাকায় আরেকটি অভিযান চালায়। এ সময় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বলদিটারী গ্রামের মো. আশাদুল হকের ছেলে মো. সোহাগ ইসলামকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। অভিযানে তাঁর হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ২৬টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন বেলা সোয়া ১১টার দিকে কর্ণহার থানা পুলিশ ঘোষপুকুর গ্রামে মো. আনোয়ার হোসেনের (৩৩) বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ওই গ্রামের মো. সেলিম হোসেন ও মোসা. মানোয়ারা বেগমের ছেলে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৩৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আনোয়ারের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় একটি মাদক মামলা ও একটি পেনাল কোড আইনে মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া সকাল পৌনে ৯টার দিকে দামকুড়া থানা পুলিশ আশগ্রামে অভিযান চালিয়ে মো. সাবায়েদুল ইসলামকে (৬২) গ্রেপ্তার করে। তিনি রাজপাড়া থানার দাশপুকুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত এমাজ উদ্দিনের ছেলে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ বোতল দেশীয় তৈরি চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ।
এদিকে, ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে মতিহার থানা পুলিশ কাজলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রমজান আলীকে (২৫) গাঁজা সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। তিনি তালাইমারী মোড়ের বাদুরতলা এলাকার মো. নান্টুর ছেলে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রমজানের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি এবং পেনাল কোড আইনে একটি মামলা রয়েছে।
আরএমপি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
