নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর:
দিনাজপুরে ২০ হাজার ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, মাদক বিক্রির ৪০ হাজার টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও দুটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে এবং ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন লাইনপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দক্ষিণ বালুবাড়ী লাইনপাড় এলাকার মো. সোহেল রানা (৪২) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. লাকি বেগম (৩৫)। সোহেল রানার বাবার নাম আব্দুস সাত্তার এবং লাকি বেগমের বাবার নাম মোজাফফর।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২০ হাজার ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, একটি ইয়ামাহা এফজেড-২৫০ মোটরসাইকেল, মাদক বিক্রির নগদ ৪০ হাজার টাকা, চারটি বাটন ফোন, একটি স্মার্টফোন ও দুটি ব্যাগ।
গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আপরাধ ও দূনীতি
রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৪, হেরোইন-ইয়াবা-গাঁজা উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও নেশাজাতীয় সিরাপসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া পুলিশের অভিযানের সময় দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান। তাঁদের ফেলে যাওয়া নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কাশিয়াডাঙ্গা থানার কেশবপুর পুলিশ ফাঁড়ি, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রাজপাড়া থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার কেশবপুর পুলিশ ফাঁড়ি পূর্ব রায়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল হোসেন (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা দুই গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রজব আলী (৩২) নামের আরেক ব্যক্তি পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে কাশিয়াডাঙ্গা ও রাজপাড়া থানায় ১১টি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই দিন রাত ৮টার দিকে রাজপাড়া থানার শ্রীরামপুর নদীর ধার এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামাল আলী ওরফে হাবিল (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ৭৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজপাড়া থানা পুলিশ লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মতিয়ার রহমান মতি (৫৫) ও শফিকুল ইসলাম (৫৪) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় মতির কাছ থেকে ২৬১ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। শফিকুলের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় দুটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া ১৫ অক্টোবর দামকুড়া থানার বেড়পাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় সুমন আলী (২৭) নামের এক ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে তাঁর ফেলে যাওয়া ছয় বোতল ব্রনকফ-সি, দুই বোতল মোনোড্রিল ও তিন বোতল ফেয়ারড্রিল সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
আরএমপি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীর মোহনপুরে রংয়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১০৬ গ্রাম হেরোইনসহ মো. মিনহাজ হোসেন মিলন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে উপজেলার গোছা বাজারের হাজি মার্কেটে তাঁর রংয়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৫-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে ১০৬ গ্রাম হেরোইন ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার মিনহাজ হোসেন মিলন মো. মিজানুর রহমানের ছেলে। তাঁর বাড়ি মোহনপুর উপজেলার গোছা গ্রামে।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোটসহ মো. মোস্তফা (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বড়াইগ্রাম উপজেলার রাজাপুর বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-৫-এর রাজশাহীর সিপিএসসি ও নাটোরের সিপিসি-২-এর একটি যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার মোস্তফা পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আমজাদ আলী এবং মায়ের নাম মৃত সালেহা বেগম।
এসআরবি-৫-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানের সময় মোস্তফার হেফাজত থেকে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোট ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দতালিকাভুক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে গ্রেপ্তার মোস্তফাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীতে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ সময় ৮টি ইয়াবা ও ২টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল নেশাজাতীয় মোনোড্রিল সিরাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন।
আরএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ কাদিরগঞ্জ দড়িখরবোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফরহাদুল ইসলাম ফেরদৌস (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ১৩ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে কয়েরদাড়া বিলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামাল শেখ (৬৫) নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ২টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, ১৪ অক্টোবর রাত সোয়া আটটার দিকে দামকুড়া থানার পুলিশ ভিমের ডাইং এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রনি (৩২) নামের এক ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে তাঁর ফেলে যাওয়া ২৫ বোতল মোনোড্রিল সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৯২ দশমিক ৫৪ গ্রাম হেরোইনসহ মো. মঈন উদ্দিন তালুকদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার বন্ধু ইউনিয়নের কোমড়গ্রাম (নলপুকুর) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৫-এর জয়পুরহাট সিপিসি-৩-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হিমচী থেকে বটতলীগামী পাকা সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায়। এ সময় একটি ইজিবাইকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। ইজিবাইকটি থামার পর এর এক যাত্রী পালানোর চেষ্টা করেন। পরে অভিযানিক দলের সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।
গ্রেপ্তার মঈন উদ্দিন তালুকদারের কাছ থেকে ৯২ দশমিক ৫৪ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী মাদকদ্রব্যটি জব্দ করা হয়।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও জব্দ করা হেরোইন পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জয়পুরহাট সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর একটি ও বগুড়ার একটি জুয়েলারি দোকান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা দুটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সাহেববাজারের ‘আশা জুয়েলারি স্টোরে’ এক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে স্বর্ণের গহনা কেনার কথা বলেন। তিনি একটি নাকফুল ৭০০ টাকায় কেনেন এবং আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পরে নেওয়ার কথা জানান।
এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি চেইনটি নিতে দোকানে আসেন। দোকানে চেইন না থাকায় পাশের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। চেইনটির তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ সময় ওই ব্যক্তি ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট দেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাই করতে পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। পরে দোকানে ফিরে তিনি ওই ব্যক্তিকে আর পাননি।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএমের নির্দেশনায় বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ও আরএমপির সিসি ক্যামেরা টিম ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকা থেকে মামলার আসামি মো. রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল জানান, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া স্বর্ণের চেইনটি তিনি খিলক্ষেতের ‘মা জুয়েলার্স’-এর মালিক মো. রোমানের কাছে বিক্রি করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর আশা জুয়েলারি স্টোর থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকেও জাল নোট দিয়ে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার একটি স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ করেন রিয়াজুল। ওই চেইনটিও উদ্ধার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এ ছাড়া রিয়াজুলের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াজুল ইসলাম একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা ও ঢাকার খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
নাটোরে পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে হেরোইন বহনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাঁদের কাছ থেকে ১০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার দক্ষিণ বড়গাছা বড়মোড় থেকে ছোটমোড়গামী সড়কে আসাদ কম্পিউটার দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৫-এর নাটোর ক্যাম্পের একটি দল এ অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আলিপুর মহিষালবাড়ী এলাকার সাকিবুর রহমান সাকিব (৩৮) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর জোরপুকুরিয়া এলাকার মিন্টু আকন্দ (৪৩)।
র্যাব-৫ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে সাকিব ও মিন্টুকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব তাঁর পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে মাদক রাখা হয়েছে বলে জানান। এরপর উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁর কাছ থেকে ১০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব জানিয়েছেন, রনি নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে বহন করে মিন্টু আকন্দের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নাটোরে এসেছিলেন।
র্যাব-৫ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা, পবা, রাজপাড়া ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ ১ লাখ ১৩ হাজার ১৩০ টাকা জব্দসহ নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে চন্দ্রিমা থানা-পুলিশ শিরোইল কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তসলিম (৩৮) ও নাহিনা হাসান নিলয় (২১) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তসলিমের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা সাতটি ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ৯১ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। নিলয়ের কাছ থেকে আরও দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তসলিমের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া ও চন্দ্রিমা থানায় পৃথক দুটি মাদক মামলা রয়েছে। নিলয়ের বিরুদ্ধেও চন্দ্রিমা থানায় একটি মাদক মামলা এবং রাজশাহীর সিএমএম আদালতে একটি নন-জিআর মামলা রয়েছে।
একই দিন বেলা পৌনে তিনটার দিকে চন্দ্রিমা থানা-পুলিশ হাজরাপুকুর নিউ কলোনি এলাকায় শ্যামলী বেগম (৪৪)-এর বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় শ্যামলী বেগম ও তাঁর সহযোগী রাহুল ইসলাম ওরফে মুন্না (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ২২ হাজার ১৩০ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাহুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে শ্যামলী বেগমের সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। শ্যামলীর বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় পেনাল কোড আইনে দুটি এবং Negotiable Instruments Act, 1881-এ একটি মামলা রয়েছে। রাহুলের বিরুদ্ধে রাজশাহী রেলওয়ে থানায় পেনাল কোড আইনে একটি মামলা রয়েছে।
এদিকে, একই দিন সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে পবা থানা-পুলিশ হাটগোদাগাড়ী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাইনুল ইসলাম রনি (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে ছয়টি ট্যাপেন্টাডল ও তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। রনির বিরুদ্ধে পবা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
রাত আনুমানিক আটটার দিকে রাজপাড়া থানা-পুলিশ দাশপুকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান ইসলাম অনন্ত ওরফে সোহান (২০)-কে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া গত ১১ আগস্ট রাত সোয়া ১১টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশ হড়গ্রাম নতুনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল সাত্তার (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে তিনটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আরএমপি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহীতে ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ মাদকবিরোধী টিম। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৩৭ হাজার ১৫০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরের রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর আইডি বাগানপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লক্ষ্মীপুর আইডি বাগানপাড়া এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও বাদলের মেয়ে মোছা. জলি বেগম (৪৪) এবং একই এলাকার মো. জয়দুল ইসলামের স্ত্রী ও মৃত আজগর আলীর মেয়ে মোছা. মিনা বেগম (৪৫)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ মাদকবিরোধী টিম প্রথমে জলি বেগমের বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। পরে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১ হাজার ৪৪ পিস ট্যাপেন্টাডল, ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪ দশমিক ৮ গ্রাম হেরোইন ও ১ কেজি ৮০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির নগদ ৩৭ হাজার ১৫০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
আরএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জলি বেগমের বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় আগের ১৭টি মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৮ জুন একটি মাদক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, মিনা বেগমের বিরুদ্ধেও রাজপাড়া থানায় আগের দুটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে জলি বেগমের সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
আরএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
