নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কানাইডাঙ্গা এলাকায় ‘জুনিয়র তারেক’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরে মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও তেমন সম্পদের মালিক ছিলেন না তারেক। তবে অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তাঁর বিলাসবহুল বাড়ি, বড় গরুর খামার এবং প্রায় ৩০ বিঘা জমি রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় কয়েকজন।
এসব সম্পদের উৎস নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ী এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত ‘সিনিয়র তারেক’ এবং কানাইডাঙ্গা এলাকার ‘জুনিয়র তারেক’ একই নামে পরিচিত। এ কারণে এলাকায় তাঁদের একজনকে ‘সিনিয়র তারেক’ এবং অন্যজনকে ‘জুনিয়র তারেক’ নামে ডাকা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ‘সিনিয়র তারেক’ প্রায় সাড়ে ছয় কেজি হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের পর এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। তবে তিনি কারাগারে থাকলেও তাঁর মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। বর্তমানে তাঁর মাদক ব্যবসা ‘জুনিয়র তারেক’ নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, গোদাগাড়ীর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে হেরোইন এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এই মাদক কারবারের সঙ্গে ‘জুনিয়র তারেক’ জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও ‘জুনিয়র তারেক’ এখনো গ্রেপ্তার হননি। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত কোনো মামলাও হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এলাকায় মাদক কারবার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিপুল সম্পদের উৎস তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তাঁর সম্পদের হিসাব যাচাইয়েরও দাবি জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে তারেককে একাধিকবার মুঠোফোনে ও সরেজমিনে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন মিয়া বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কেউ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকলে, সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
