আজ- , ,

অভিভাবকহীন শ্যামনগরের ভবিষ্যৎ কী,ঘুরে দাঁড়াতে কি পারবে এমপি নজরুল?

by Prokash Kal

এম এ রশিদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

অভিভাবকহীন সাতক্ষীরা-০৪ শ্যামনগরে বিপাকে পড়েছে প্রায় ৪লক্ষ মানুষ। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ড মনিরুজ্জামানকে ২২হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়তের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম। প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতাকে এলাকার অভিভাবক হিসেবে পেয়ে আশায় বুক বাঁধে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ পশ্চিমের সর্বশেষ নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরের মানুষ। তাদের আশাটা যে একেবারে হতাশাব্যঞ্জক ছিল তাও না। সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও বিশেষ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। প্রবীন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে নিজের নির্বাচনী এলাকাসহ সাতক্ষীরার সকল সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা গেছে।

কিন্তু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা প্রভাবশালী হলে যে তার নীতিনৈতিকতা ও চরিত্র বির্ষজিত হয় তার প্রমান দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-০৪ এর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের অধিকার, ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী পর্দা করা,নারী নির্যাতন বন্ধ, ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েমসহ ইনসাফের কথা বলে নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। অথচ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নৈতিক স্খলনে জড়িয়ে পড়েন।

গত ২০শে জুলাই ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেল কক্ষে এক তরুণীসহ তাকে আটক করে সাধারণ মানুষ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। একই সাথে ২৭ই আগস্ট জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের সময় জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং বিশেষ কমিটি থেকে তার সদস্যপদ বাতিল করে। দল ও সংসদীয় কমিটি থেকে বহিস্কার হলেও বাংলাদেশের পরিচালিত আইনানুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ টিকে থাকে। মগবাজার কেলেঙ্কারির পর থেকে জাতীয় সংসদে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের আনাগোনা নেই বল্লে চলে। এমনকি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যোগ দেননি তিনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি তার মধ্যে তিনি একজন। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে তাকে দেখা গেলেও কর্য্যত নিস্ক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন।

এখন প্রশ্ন হলো নিজের অপরাধ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আর কত লুকোচুরি,আর কত তালবাহানা দেখবে শ্যামনগরের মানুষ? একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি যদি নিজেকে সরকারের সকল কাজ থেকে বিরত রাখে,তাহলে শ্যামনগরের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের ভাগ্যে কি হবে? যেখানে শ্যামনগর উপজেলায় মোট প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার (১৪৫.৮ কিলোমিটার) বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ৫০কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা ঘাট, ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যসেবাসহ অসংখ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন দরকার। যখন সরকার সারাদেশ ব্যাপী উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে ঠিক তখনই নৈতিক স্খলনে দ্বায় নিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখছেন তিনি। এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন অভিভাবকহীন শ্যামনগরের ভবিষ্যৎ কী ? আসলেই কি তিনি সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে শ্যামনগর বাসির উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন? না নিজেকে লুকিয়ে রেখে শ্যামনগর বাসিকে মহা সাগরে ভাসিয়ে দেবেন?

Share this news as a Photo Card

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম:
14 September 2026

অভিভাবকহীন শ্যামনগরের ভবিষ্যৎ কী,ঘুরে দাঁড়াতে কি পারবে এমপি নজরুল?

www.prokashkal.com |
/Prokashkal