
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার নকিপুর জমিদার বাড়ি সংলগ্ন বিলে প্রতিবন্ধী মানুষের আর্থিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ঈদ আনন্দ মেলা’র নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও এখনো অব্যাহত রয়েছে মেলার কার্যক্রম। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মেলা চালু থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে জারি করা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস স্বাক্ষরিত একটি পত্র অনুযায়ী শ্যামনগর ইউনাইটেড ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি শেখ গোলাম মোস্তফা সোহেলের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনব্যাপী প্রতিবন্ধী বিষয়ক চিত্র প্রদর্শনী ও সুস্থ বিনোদনের আয়োজনের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অনুমোদিত সময়সীমা শেষ হওয়ার চারদিন পরও, অর্থাৎ ১৫ জুন পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করে মেলা চালানো হলেও কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলায় প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স ব্যবহার করে নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বহিরাগত শিল্পীদের অংশগ্রহণও করছে। রাত গভীর পর্যন্ত উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান চলায় শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সুস্থ বিনোদনের অনুমতি নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে বিনোদনমূলক আয়োজন কতটুকু অনুমোদনের আওতায় পড়ে সেটি কি স্থানীয় প্রশাসনের চোখে পড়ছে না?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের অনুমতি সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও মেলা চলতে থাকলে তা প্রশাসনিক বিধিবিধানের প্রতি প্রশ্ন তৈরি করে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি অনুমোদনের মেয়াদ ১১ জুন পর্যন্ত হয়ে থাকে, তাহলে ১৫ জুন পর্যন্ত কীভাবে মেলা পরিচালিত হচ্ছে? মেলার আয়োজকরা কি নতুন কোনো অনুমতি নিয়েছেন, নাকি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন? বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট নয়।

অনুমতির মেয়াদ শেষ হলেও মেলা চলার বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বললে ভালো হবে। মেলা কতদিন চলবে সে বিষয়ে আমার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা নেই। আমি ছুটিতে ছিলাম, সে সময় মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানি। তবে অনুমতির মেয়াদ কতদিন ছিল বা বর্তমানে মেলা চলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন মেলার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এরপর মেলা চলার কথা না। যদি চলে সে দায়ভর তাদের বিষয়টা আমি দেখতেছি।
