
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সত্য প্রকাশের জেরে একের পর এক ষড়যন্ত্র ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিককে। মাত্র ১৭ মাসের ব্যবধানে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক ১৫৯টি অভিযোগ দায়ের করেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম । তবে অবশেষে জয় হয়েছে সত্যেরই। পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিবিড় এবং নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এসব অভিযোগের সিংহভাগই ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কাল্পনিক ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সক্রিয় মোঃ খায়রুল আলম রফিক বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। এর ফলে একটি প্রভাবশালী মহল তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাঁর কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে। এসব অভিযোগের অধিকাংশই করেন আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম ও তার চক্রের সদস্যরা।
অভিযোগকারী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম ২২/০৭/২০১৭ ইং তারিখ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে এই শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে ২০২৫ সালে সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম রেজা একটি মানহানির মামলা দায়ের করলে গত ৫/০৩/২০২৬ ইং তারিখ ময়মনসিংহ পিবিআই শহিদুল ইসলামসহ ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন: এত বিতর্কের পরও অভিযোগকারী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তরে অবাধে যাতায়াত করছেন বলে জানা যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলেন, অন্যায় ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েও ভেঙে পড়েননি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিটি আইনি লড়াই করেছি এবং করে যাচ্ছি।
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে খায়রুল আলম রফিক বলেন “আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকতা করে এসেছি। গত ১১ বছরে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী আমলাদের দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, অর্থপাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয়ে প্রায় ৯০০টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় স্বর্ণপদক সহ তিন গুরুত্বপূর্ণ পদক পেয়েছি। আমার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জেরে আওয়ামী শাসনামলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় আমার বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা করা হয়।
যার মধ্যে ৪৪টি মামলা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। একটি মামলায় তিন বছরের সাজা হয়েছিল। এসব সাজানো মামলার কারনে ২১ বার গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনবার পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছি, চোখ বেঁধে নির্যাতনও করা হয়েছে। তবে কোনো বাধাই আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে থামাতে পারেনি। তদন্তে সত্য বের করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করায় আমি পুলিশ প্রশাসন ও সম্মানিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ধন্যবাদ জানাই।”
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ভয়ভীতি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সত্যকে সাময়িকভাবে চেপে রাখা গেলেও চিরতরে মুছে ফেলা যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: বানোয়াট মামলা বা অভিযোগের মাধ্যমে সৎ ও সাহসী মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
সত্যের অনিবার্য জয়: সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিকের এই আইনি জয় সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তিনি বর্তমানে জনপ্রিয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও দেশের জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল বিডি২৪লাইভের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে সর্বদা সত্যের পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।
