
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ক্ষতিকর ব্যবহার কমানো, কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষক, পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি গ্রামে এগ্রোইকোলজি ও নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক এক অ্যাডভোকেসি সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) ও গ্রিন কোয়ালিশন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। এতে ৫৬ জন নারী-পুরুষ ও যুব অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, কৃষির উন্নয়ন শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। মাটির স্বাস্থ্য, পানিসম্পদ, পরিবেশের ভারসাম্য, প্রাণবৈচিত্র্য ও মানুষের পুষ্টিনিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য রাসায়নিক উপকরণনির্ভর কৃষির পরিবর্তে দেশীয় বীজ, জৈব সার, প্রাকৃতিক বালাই ব্যবস্থাপনা ও ফসলের বৈচিত্র্যভিত্তিক এগ্রোইকোলজি চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাটির উর্বরতা হ্রাস কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় পানি সাশ্রয়ী কৃষি, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ এবং কৃষকের অভিজ্ঞতা ও দেশীয় জ্ঞানের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
সভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান পরীক্ষা, বাজার তদারকি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকারী কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সভা থেকে কৃষিনীতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় এগ্রোইকোলজিকে অগ্রাধিকার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা, নারী ও তরুণ কৃষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগসহ আটটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন বারসিকের রাজশাহী রিসোর্স সেন্টারের প্রোগ্রাম অফিসার (কৃষি) মো. তৌহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, পবা উপজেলা গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি রহিমা বেগম এবং বারসিকের কমিউনিটি ও ক্যাম্পেইন ফ্যাসিলিটেটর পলি রানীসহ স্থানীয় কৃষক ও যুব প্রতিনিধিরা।
