
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দখল, দূষণ, ভরাট ও পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণে সংকটে পড়েছে রাজশাহীর নদ-নদী। কমছে নাব্যতা, হুমকিতে পড়ছে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা। সম্প্রতি বারনই নদীতে দেশীয় মাছের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনায় পানিদূষণ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব চিত্র তুলে ধরা হয়। ‘রাজশাহী জেলার নদ-নদীর সামগ্রিক অবস্থা’ শীর্ষক উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল।
উপস্থাপনায় পদ্মা, মহানন্দা, বড়াল, বারনই, শিব, ফকিরনী, মুসাখান, হোজা, নারদ, স্বরমঙ্গলা, বারাহী, দয়া ও সন্ধ্যাসহ ১৩টি নদীর দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অবৈধ স্থাপনা, পলি জমা, কচুরিপানা ও বিভিন্ন অবকাঠামোর কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, বারনই নদীতে মাছের মৃত্যুর ঘটনায় পানিতে অ্যামোনিয়ার আধিক্য ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, নদীকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না; জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
তাঁরা নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণের উৎস বন্ধ, বর্জ্য শোধন নিশ্চিত করা, নদী-খালের সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনঃখননের দাবি জানান। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীর বারাহী, নবগঙ্গা ও স্বরমঙ্গলা নদী দখল-দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
রুলফাওয়ের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, জেলা মৎস্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোসা. আয়েশা খাতুন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রিংকু প্রামাণিক, দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত এবং এএলআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানজিদা খানসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এএলআরডি, বেলা, রুলফাও, বস্তি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থা, বারসিক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, মাসাউস, ঠিকানা ও সামাজিক কল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
