
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নওগাঁর পত্নীতলার নজিপুর ইউনিয়নে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা নামে অশ্লীলতা বন্ধ করতে বলায় এক ইমামকে মারধর এবং পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নজিপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন নজিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তিদের উদ্যোগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন নারী ভাড়া করে এনে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় স্থানীয় ইমাম সাহেব মঞ্চে উঠে অনুষ্ঠান না করার ঘোষণা দেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হানিফ ইমামকে ধাক্কা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের ৫ থেকে ৭ জন আহত হন।
রাকিব, নুরনবীসহ একাধিক গ্রামবাসী জানান, অনুষ্ঠান শুরু হয়ে দুটি গান পরিবেশনের পর ভাড়া করা নারীরা মঞ্চে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন ইমাম সাহেব মঞ্চে উঠে বলেন, “আমরা মুসলমান, আমাদের এসব করা ঠিক না। আপনারা এসব বন্ধ করে দেন।” এরপর অনুষ্ঠান কমিটির লোকজন হুজুরকে ধাক্কা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার পরদিন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হানিফ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও কয়েকজনকে অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযুক্তরা হলেন মো. আফজাল মুন্সি, মো. আলম, মো. মামুন বিল্লা, শ্রী রনজিৎ, মো. ফারুক, মো. শাহাজান, মো. সাদ্দাম, মো. শামীম, মো. মিজানুর রহমান ও মো. ফরিদ। মো আফজাল মুন্সি পেশায় একজন মসজিদের ইমাম।
গ্রামবাসীদের দাবি, ইমাম সাহেব অত্যন্ত সহজ-সরল ও ভালো মানুষ। ওনি তো অশ্লীলতা বন্ধ করতে বলেছেন, এটা তো ভালো কাজ। তাদের দাবি বিশেষ উদ্দেশ্যে ইমামের নাম মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
জামিনে মুক্ত হওয়া অভিযুক্ত শ্রী রনজিৎ দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
অভিযুক্তদের পরিবারের অভিযোগ, মামলার বাদীপক্ষ তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছে। টাকা দিলে মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ নিয়ামুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তবে কেউ নির্দোষ হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে।
