আজ- , ,

স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে সাশ্রয়ী প্যাকেজিংয়ে নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিতের আহ্বান

by Prokash Kal

নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে সাশ্রয়ী মূল্যের আলো-প্রতিরোধী প্যাকেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ ভোজ্যতেল সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও বক্তারা। তারা বলেন, ভোজ্যতেলের মান রক্ষায় প্যাকেজিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কম খরচের কার্যকর প্যাকেজিং প্রযুক্তি জরুরি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে নগরীর নানকিং দরবার হলে আয়োজিত “স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল সহজলভ্যকরণে স্বল্পমূল্যের প্যাকেজিং প্রচলন” বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ ভোজ্যতেল খোলা অবস্থায় বিক্রি হয়, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এসব খোলা তেলের কনটেইনার অনেক সময় ফুড-গ্রেড নয়, ফলে ধুলোবালি, কীটপতঙ্গ ও বিভিন্ন দূষণ সহজেই তেলের সঙ্গে মিশে যায়। এতে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত অজান্তেই ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করছেন। তারা আরও বলেন, খোলা তেলের তুলনায় বোতলজাত তেলে পার-অক্সাইড ভ্যালু তুলনামূলকভাবে কম হলেও বাজারে খোলা তেলের আধিপত্য এখনো বেশি।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা না গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তেই থাকবে। সাশ্রয়ী মূল্যের নিরাপদ প্যাকেজিং প্রযুক্তি চালু করা গেলে নিম্ন আয়ের মানুষও নিরাপদ খাদ্যের আওতায় আসবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার। তিনি বলেন, আলো ভিটামিন এ-এর কার্যকারিতা নষ্ট করে এবং ভোজ্যতেলে অক্সিডেশন বাড়িয়ে পার-অক্সাইড ভ্যালু বৃদ্ধি করে, যার ফলে তেল দ্রুত নষ্ট হয়। এতে তেলের রং, স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আলো প্রতিরোধী প্যাকেজিং ব্যবহার করলে এসব ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ভোজ্যতেলের গুণগত মান রক্ষায় উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। আলো ও অক্সিজেনের সংস্পর্শ তেলের মান নষ্ট করে। তাই সাশ্রয়ী আলো-প্রতিরোধী প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিত করা সম্ভব।

সভার শুরুতেই সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, খোলা তেলের অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থা ভোক্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বাজারে স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা চাই, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্যাকেজিং ব্যবস্থা চালু করে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ভোজ্যতেল সহজলভ্য করা হোক।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী সিভিল সার্জন রাজশাহী ডা. এস. আই. এম. রেজাউল করিম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী। বক্তারা বলেন, সরকার, উৎপাদক ও ভোক্তা সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সাশ্রয়ী প্যাকেজিং ব্যবস্থা চালু হলে ভোজ্যতেলের অপচয় কমবে, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং নিম্ন আয়ের মানুষও নিরাপদ ও মানসম্মত ভোজ্যতেল ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

Share this news as a Photo Card

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম:
18 June 2026

স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে সাশ্রয়ী প্যাকেজিংয়ে নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিতের আহ্বান

www.prokashkal.com |
/Prokashkal