আজ- , ,

পদ্মায় নৌকাডুবি: নিরাপত্তায় মাঝিদের লাইফ জ্যাকেট, শোকাহত পরিবারের পাশে যুবদল

by Prokash Kal

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
পদ্মার বুক থেকে সেদিন ফিরে এসেছিল ছয়টি প্রাণ। কিন্তু ফিরতে পারেননি আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল। নদীর কালো জলে হারিয়ে যাওয়া দুই মানুষকে ঘিরে এখন শুধু কান্না আর আহাজারি। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে জাহেরা বেগমের ঘর যেন মুহূর্তেই নিভে গেছে। সেই শোকের ভার কাঁধে নিয়ে এখন তাঁকে ভাবতে হচ্ছে পিতৃহারা দুই নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়েও। এমন এক অসহায় সময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী মহানগর যুবদল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় জাহেরা বেগমের পিতৃহারা দুই নাতি-নাতনির দায়িত্ব নিয়েছে মহানগর যুবদল। একই সঙ্গে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী। আর যে নদী কেড়ে নিয়েছে তাঁর স্বামী-সন্তানকে, সেই পদ্মায় আর কোনো পরিবার যেন এমন শোকের মুখোমুখি না হয়—এই প্রত্যয়ে মাঝিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে লাইফ জ্যাকেট। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায় জাহেরা বেগমের পরিবারের হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পরে নগরীর বড়কুঠি ঘাটে নৌকার মাঝিদের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রবি। এর আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে নগরের বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মার চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় করে ফিরছিলেন আটজন। মাঝ নদীতে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। যাত্রীরা পানিতে ঝাঁপ দিলে অন্য নৌকার মাঝি ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান মাঝি আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল।
খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহেরা বেগম বলেন, ‘নৌকাডুবিতে আমি আমার স্বামী ও কলিজার টুকরা ছেলেকে হারিয়েছি। একসঙ্গে দুই আপনজনকে হারিয়ে আমার ঘরটা মুহূর্তেই শূন্য হয়ে গেছে। এই কষ্ট আমি কীভাবে সহ্য করব, জানি না। এই দুঃসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যুবদল আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, খাবারের ব্যবস্থা করেছে এবং আমার পিতৃহারা দুই নাতি-নাতনির দায়িত্ব নিয়েছে। তাঁদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’
লাইফ জ্যাকেট হাতে পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বড়কুঠি এলাকার নৌকার মাঝি শরিফুল বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন জীবিকার জন্য পদ্মা নদীতে নৌকা চালাই। নদীর ঝুঁকি সম্পর্কে আমরা জানি। কিন্তু অনেক সময় যাত্রীদের তাড়া বা অসচেতনতার কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়। নৌকাডুবির সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। যুবদলের পক্ষ থেকে লাইফ জ্যাকেট দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। এখন থেকে আমরা নিজেরা লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করার পাশাপাশি যাত্রীদেরও তা ব্যবহারে উৎসাহিত করব।’
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রবি বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় জাহেরা বেগমের পিতৃহারা দুই নাতনির দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। পরিবারের পাশে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রাণহানি কমাতে মাঝিদের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করেছি। আমরা চাই না পদ্মার বুকে আর কোনো নৌকাডুবিতে কোনো মায়ের বুক খালি হোক।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসদুল হক মৃধা মমিন, মো. মজিবুল হক মিলন, সদস্য রবিন হোসেন, বোয়ালিয়া পশ্চিমের যুবনেতা মিনহাজুল ইসলাম মানিকসহ মহানগর যুবদলের সদস্যরা।

Share this news as a Photo Card

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম:
29 July 2026

পদ্মায় নৌকাডুবি: নিরাপত্তায় মাঝিদের লাইফ জ্যাকেট, শোকাহত পরিবারের পাশে যুবদল

www.prokashkal.com |
/Prokashkal