আজ- বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়ের জামাইয়ের দীর্ঘদিনের অত্যাচার সইতে না পেরে শাশুড়ির আত্মহত্যা

by Prokash Kal
১১৫ views

শাহান আলী, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় মেয়ের জামাইয়ের অব্যাহত দুর্ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতন থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এক নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পুরো ব্রজবালা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।

মৃত নারী মরিয়ম খাতুন (৫০) কায়েমপুর ইউনিয়নের ব্রজবালা গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দুই মেয়ের মা ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় মেয়ে বিয়ের পর আলাদা বাড়িতে থাকলেও ছোট মেয়ে কল্পনার স্বামী আজিজুল বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন। প্রথমদিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে আজিজুলের আচরণ পরিবর্তিত হতে থাকে। প্রায়ই ঘরে অশান্তি সৃষ্টি করা, অকারণ গালিগালাজ, স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে দুর্ব্যবহার—এসব ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, মঙ্গলবার বিকেলে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আজিজুল ক্ষিপ্ত হয়ে রান্নাঘরের একটি সিলভারের কলস নিক্ষেপ করে মরিয়ম খাতুনের দিকে। এতে তার ঠোঁট ফেটে রক্তপাত হয়। প্রতিবেশীরা তখন তাকে সেবা-শুশ্রূষা করলেও ভিতরে ভিতরে অপমান ও কষ্টে ভেঙে পড়েন তিনি।

নিহতের মেয়ে কল্পনা খাতুন জানান, বুধবার রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর মা একা ঘরে ছিলেন। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে তার ঘর থেকে কোনো শব্দ না পেয়ে আমি ডাকতে যাই। দরজা ঠেলে দেখি মা ওড়না পেঁচিয়ে কাঠের ধরনায় ঝুলছেন। চিৎকার করলে আমার বোন আর স্বামী দৌড়ে এসে মাকে নিচে নামায়। কিন্তু তখনই তিনি নিথর।

ঘটনার পর গ্রামের মানুষজন ভিড় জমালে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়।

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী পিপিএম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও ঘটনার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা রুজু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আজিজুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গ্রামবাসীরা জানান, মরিয়ম খাতুন শান্ত স্বভাবের নারী ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই মেয়েকে মানুষ করাই ছিল তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু জামাইয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পৌঁছাতে হয়েছে—এতে সবাই ব্যথিত।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: