
প্রকাশকাল ডেস্ক:
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একাধিক রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কমিটি সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
গত বছরের ১০ জুলাই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে, ফ্যাসিস্ট সরকার থাকাকালীন সময়ে বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ওই সময় ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তৎকালীন প্রশাসনও এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, ইসলামী ছাত্র শিবিরেরও একটি কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে। তবে ক্যাম্পাসকে রাজনীতি মুক্ত দাবি করা হওয়ায় সংগঠনটি তাদের কমিটির তালিকা প্রকাশ্যে আনেনি।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস সালাউদ্দীন আম্মার প্রকাশ্যে দাবি করেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিন্ডিকেটের সদস্যরা আওয়ামী লীগের দোসর। তার এমন বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাসের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা এবং প্রশাসনের নীরবতা শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডাঃ মো. আব্দুল আউয়াল জানান, আমাদের যে অফিসিয়াল ব্যবস্থা সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি সেটি আমাদের অফিসে আসলে বিস্তারিত জানাতে পারবো।
