আজ- , ,

রাজশাহীতে মদের বারে অনিয়মের অভিযোগ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন

বারের ভেতরে মদ্যপানের ভিডিও গণমাধ্যমের হাতে, নির্ধারিত সময়ের পরও বিক্রির অভিযোগ

by Prokash Kal

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী:

রাজশাহীতে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত মদের বারে নিয়মনীতি না মেনে মদ বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বারে প্রবেশ ও মদ্যপান, ক্রেতাদের অনুমতিপত্র যাচাই এবং নির্ধারিত সময়ের পরও মদ বিক্রির অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে। বারের ভেতরে মদ্যপানের একটি ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে। এতে কয়েকজন অল্পবয়সী তরুণকে মদ্যপান করতে দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহীতে অনুমোদিত মদের বার হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। অভিযোগকারীদের দাবি, এখানে যেকেউ মদ কিনতে ও পান করতে পারছেন। যদিও প্রচলিত আইন ও বিধিমালায় অ্যালকোহল কেনা, বিক্রি, বহন ও পান করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে।

আইনে যা বলা আছে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ১০ ধারায় লাইসেন্স, পারমিট বা পাস ছাড়া অ্যালকোহল উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। একই আইনের ১১ ধারায় পারমিট ছাড়া অ্যালকোহল পান না করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বারে বিদেশি নাগরিক এবং পারমিটধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বসে অ্যালকোহল পানের সুযোগ রয়েছে। মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনে নির্ধারিত শর্তে অনুমতি দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

এ ছাড়া অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, মদ্যপানের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। বিধিমালায় ২১ বছরের কম বয়সীদের অ্যালকোহল পানের অনুমতি না দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে কোনো বারে অল্পবয়সী ব্যক্তিদের মদ্যপান করতে দেখা গেলে তাঁদের বয়স, অনুমতিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নির্ধারিত সময়ের পরও বিক্রির অভিযোগ

বারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও গোপনে মদ বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বার বন্ধ হওয়ার পর অতিরিক্ত দাম নিয়ে ক্রেতাদের কাছে মদ সরবরাহ করা হয়।

তরুণদের নিয়ে উদ্বেগ

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, অল্পবয়সীদের মদ্যপানের সুযোগ তৈরি হলে তা তাদের শিক্ষা, পরিবার ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁরা। পরিবারের কাছে নেশার টাকা চেয়ে না পেলে বিরোধ ও নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।

সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বারের লাইসেন্স, বিক্রির সময়সীমা, ক্রেতাদের অনুমতিপত্র যাচাই এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ডিএনসির বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ওসি মইন বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আপনাদের কাছে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে আমাদের জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারের ম্যানেজার রাজ্জাকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Share this news as a Photo Card

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম:
28 October 2026

রাজশাহীতে মদের বারে অনিয়মের অভিযোগ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন

www.prokashkal.com |
/Prokashkal