
এম এ রশিদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৯ জুন এ রুল জারি করেন। রুলে বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শিয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায় সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক আরিফা এদিব চৌধুরীর শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের জন্য ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার) বগুড়ায় চিঠি পাঠান। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর নেকটারের উপপরিচালক লিখিতভাবে জানান সংশ্লিষ্ট সনদটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং সেটি জাল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাউশির মহাপরিচালকের কাছে তার এমপিও বাতিলের আবেদন করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট তাকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদের মাধ্যমে চাকরি প্রদান যথাযথ অনুমোদন ও টেন্ডার ছাড়া বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সরকারি অর্থের অপচয়সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর মাউশি মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান।
অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মাহফুজুর রহমান হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-২০৬১৪/২০২৫) দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মাউশির মহাপরিচালক ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়িত না হওয়া এবং পরবর্তী আইনজীবীর নোটিশেরও কোনো জবাব না পাওয়ায় মাহফুজুর রহমান আদালত অবমাননার আবেদন (কনটেম্পট পিটিশন নং-২১৯/২০২৬) দায়ের করেন।
ওই আবেদনের শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২৯ জুন হাইকোর্ট মাউশির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শিয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
