আজ- বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

by Prokash Kal
views

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ। বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪ টায় পবা উপজেলার তকিপুর এলাকায় অবস্থিত সমিতির প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য তুলে ধরেন রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করে আসছেন। সে সময় বস্তা চুক্তির ভিত্তিতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতেন। প্রতি বস্তা আলুর জন্য ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, যা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় উন্নীত হয়। এর মধ্য থেকে আলু সংরক্ষণকারীরা বিভিন্ন হারে কমিশন পেতেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ও ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন একতরফাভাবে আলুর ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রতি বস্তা আলুর ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তিনি বলেন, সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, পরবর্তীতে বিষয়টির সমাধান হবে। এ আশ্বাসের ভিত্তিতে গত ১৯ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে হিমাগার ভাড়া পুণরায় বিবেচনার জন্য আবেদন করা হয়।

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিট হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।

সমিতির নেতারা জানান, রাজশাহী জেলায় মোট ৩৬টি হিমাগার রয়েছে। প্রতিটি হিমাগার থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় এক হাজার বস্তা আলু বের হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলুর বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: