
এম এ রশিদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ রোপণের পর এবার সেগুলো থেকে জন্ম নেওয়া চারাগাছ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সংগঠনগুলো। চারাগাছের সুরক্ষা, বেড়া নির্মাণ, নিয়মিত পরিচর্যা ও পাহারার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে ইউনিয়ন পর্যায়ের তদারকি কমিটির সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার আয়োজন করে সংগঠিত জনসংগঠন, শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন ও গ্রিন কোয়ালিশন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কমলা রানী। সঞ্চালনা করেন বারসিকের ক্যাম্পেইন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স.ম. ওসমান গনী সোহাগ।
সভায় বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম বলেন, বীজ রোপণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয় না; অঙ্কুরোদগম থেকে চারাগাছের বেড়ে ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে যত্ন ও সুরক্ষা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জনসংগঠনগুলো এগিয়ে এলে উপকূলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ শুধু সবুজায়ন নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এর সফলতা নির্ভর করছে রোপিত বীজের অঙ্কুরোদগম, চারাগাছের টিকে থাকা ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর।
সভায় ঈশ্বরীপুর, কৈখালী ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, মো. হাবিবুর রহমান ও মো. আশরাফ হোসেন, সর্বোচ্চ বীজদাতা লতা রানী এবং আটুলিয়া এ. কাদের স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক কিশোর কুমার বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদা পারভীন, ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহানা মোস্তফা, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শুক্করী রানী, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পলাশী রানীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের তদারকি কমিটির সদস্য ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি ইউনিয়নের তদারকি কমিটি স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চারাগাছ রক্ষায় বেড়া নির্মাণ, পাহারা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তি, সংগঠন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্পৃক্ত করে সম্মিলিত অর্থসংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। সভায় উদ্যোগটির পরিকল্পনা ও অগ্রগতি নিয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরেন বারসিকের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর এস. এম. জান্নাতুল নাঈম।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই শ্যামনগরের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার-সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক উপকূল পুনরুদ্ধারে ১০ লাখ বীজ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে উপকূলের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
