নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী রাজশাহীর দূর্গাপুরে অবৈধভাবে সার মজুদ ও প্রশাসনের অভিযানে জব্দ করা সারের পরিমাণ নিয়ে ওঠা গরমিলের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৩২৫ বস্তা সার গায়েবের যে অভিযোগ উঠে এসেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে জব্দকৃত সার সংরক্ষণ ও পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দূর্গাপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, সার জব্দের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয়। সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে সঠিক তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধও করেন তিনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এর আগে উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল এলাকায় সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে ৬৭০ বস্তা টিএসপি, ডিএপি/ডিওপি ও ইউরিয়া সার জব্দ করা হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে অভিযানের পর সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম দাবি করেন, তার বাড়িতে মোট ৯৯৫ বস্তা সার মজুদ ছিল। এর মধ্যে প্রশাসন ৬৭০ বস্তা সার জব্দ দেখিয়েছে এবং অবশিষ্ট ৩২৫ বস্তা সার গায়েব করা হয়েছে। পরে ওই সার বিক্রি করে ৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সাইদুল ইসলামের এসব অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জব্দ করা সার গায়েব হওয়ার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। জব্দকৃত সারের পরিমাণ, সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ ও বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হয়। এদিকে সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের বৈধ সার ব্যবসার লাইসেন্স না থাকার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে।
অন্যদিকে, ‘দুর্গাপুরে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন, সার গায়েব ৩২৫ বস্তা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বেলায়েত হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর জব্দকৃত সারের প্রকৃত পরিমাণ এবং ৩২৫ বস্তা সার গায়েবের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
