নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া বক্তব্য ছড়ানো ব্যক্তিদের ‘রাজশাহী ও রাষ্ট্রের শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
বুধবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন রাজশাহীবাসীর মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যারা এ স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তারা পুরো রাজশাহীবাসীর সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত করেছে।
তিনি বলেন, রেলস্টেশনে ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
যারা এ ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া বক্তব্য ছড়াচ্ছে, তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার নিন্দা জানান তিনি। গত ৫ আগস্ট রাজশাহী ও ঢাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার তুলনা করে তিনি বলেন, একই কায়দায় ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহীবাসীকে ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বহিরাগত কোনো শত্রু বা ষড়যন্ত্রকারী চক্রান্তের চেষ্টা করলে রাজশাহীবাসী অতীতের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন ভাঙচুরের স্থান পরিদর্শন করেন ভূমিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এবং আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।
এ ছাড়া রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম, শফিকুল ইসলাম শাফিক, মুক্তার হোসেন, জয়নাল আবেদীন শিবলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলুসহ থানা, ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
