
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা, পানিসংকট, তাপপ্রবাহ ও জীবিকার ঝুঁকিকে জাতীয় ও বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার অগ্রাধিকারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসব সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন ও ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ব্যবস্থায় বরেন্দ্রের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ‘খরা থেকে ন্যায়বিচারের পথে—বরেন্দ্র থেকে বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন’ স্লোগানে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটে এসব দাবি জানানো হয়।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, গ্রিন কোয়ালিশন ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে কৃষক, নারী, যুব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, শ্রমজীবী, পরিবেশকর্মী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘস্থায়ী খরা, তাপপ্রবাহ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ, কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার ঝুঁকি, নদী-খাল-পুকুর ও জলাভূমির সংকট এবং প্রাণবৈচিত্র্যের অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত। এসব মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন কাঠামো প্রয়োজন।
গ্রিন কোয়ালিশন বরেন্দ্র অঞ্চলের সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, বরেন্দ্রের পুকুর, খাল ও ছোট নদীগুলো নষ্ট হওয়া এবং অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে পানিসংকট আরও তীব্র হচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে বরেন্দ্রের জন্য পৃথক অর্থায়নের দাবি জানান তিনি।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, বরেন্দ্রের খরা, পানিসংকট ও তাপপ্রবাহ কোনো বিচ্ছিন্ন স্থানীয় সমস্যা নয়। কপ-৩১-এর জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন ও লস অ্যান্ড ড্যামেজ আলোচনায় বরেন্দ্রের বাস্তবতাকে কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কর্মসূচি থেকে বরেন্দ্রকে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি, পানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার, জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা, ন্যায়সংগত জলবায়ু অর্থায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
এ সময় বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জুয়েল কিবরিয়া, নগর প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি নিলুফার ইসমত আরা, আদিবাসী যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাবিত্রী হেমব্রমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
