
মোঃ শাহান আলী, শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গারাদহ ইউনিয়নের মাকরকোলা গ্রামে কয়েকদিন আগে খাল খননের কাজ শুরু হয়। নালিশী মৌজার নকশায় উল্লেখিত খালের জমি ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী কয়েকজন বাসিন্দা শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোঃ শানু আকন্দ ব্যক্তি মালিকানাধীন নালিশী জমির ওপর খাল খননে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে ওই স্থানে খাল খনন না করার জন্য গারাদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহকে নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্য করে প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল্লাহ খাল খননের কাজ অব্যাহত রাখেন।
বিষয়টি ভুক্তভোগীরা আদালতের নজরে আনলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোঃ শানু আকন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নালিশী জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এসময় বিচারকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আদালতের অফিস সহকারী মোঃ বায়েজিদ, বাদীপক্ষের আইনজীবীর প্রতিনিধি এবং শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান ও মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের একটি দল।
বিচারকের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন খালের সংলগ্ন স্থানে খননকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা সেখান থেকে সরে যান।
পরিদর্শনকালে অভিযুক্ত বিবাদী ও গারাদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল্লাহ উপস্থিত বিচারকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় আর খাল খনন না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এসময় ভুক্তভোগী জমির মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ও তার লোকজন খালের সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করেই বসতবাড়ির জায়গা ও লেবু বাগান জোরপূর্বক উজাড় করে খাল খনন শুরু করেন।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, একজন বিচারকের সরেজমিন উপস্থিতি এবং দ্রুত পদক্ষেপে তারা কৃতজ্ঞ। তাদের মতে, আদালতের এমন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে।
এ বিষয়ে গারাদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, “ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান লাগিয়ে দিয়েছিল। সেভাবেই আমরা খাল খননের কাজ করছিলাম। আজ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মহোদয় সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা পরবর্তী কাজ করবো।”
