আজ- মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় অপহৃত শিশু রাজশাহীতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

by Prokash Kal

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ১৪ বছরের এক শিশুকে রাজশাহীতে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এ ঘটনায় অপহরণ চক্রের মূলহোতা ও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার মো. সুমন খান (৩৭) ও রাজশাহী মহানগরীর আলীগঞ্জ মধ্যপাড়া এলাকার মো. রুবেল শেখ (৩৮)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় র‍্যাব-৫।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশু নাইম উদ্দিন (১৪) চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার প্রতাপপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২২ আগস্ট সকাল ১১টা ৫ মিনিটের দিকে বাড়ির সামনে খেলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তার বাবা দর্শনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরদিন ২৩ আগস্ট সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে নাইমের বড় ভাই মাসুদ রানার মুঠোফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কয়েকটি ছবি পাঠায়। ছবিতে শিশুটির মুখ টেপ দিয়ে আটকানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় অপহরণকারীরা নাইমকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর পর শিশুটির মামা মো. আব্দুল আলীম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অধিযাচন পাওয়ার পর র‍্যাব-৫-এর রাজশাহী সদর কোম্পানির একটি দল অভিযান শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকার হোটেল নূর আবাসিকে অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশু নাইমকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে অপহরণ চক্রের মূলহোতা সুমন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে বোয়ালিয়া থানার স্বর্ণপট্টি আবাসিক হোটেল এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্য রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই অপহরণের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য দর্শনা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: