আজ- শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে ৬ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

by Prokash Kal

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কাশিয়াডাঙ্গা, চন্দ্রিমা, মতিহার ও বোয়ালিয়া থানা পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ফেয়ারডিল সিরাপ, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ অর্থও জব্দ করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক নারী পালিয়ে যান।

আরএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার পুলিশ নবগঙ্গা বটতলা মোড়ে অভিযান চালিয়ে মো. ইউসুফ আলী (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি একই গ্রামের মৃত জালেপের ছেলে। তাঁর কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা পাঁচ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

একই দিন বিকেল ৫টার দিকে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ মুশরইল গীর্জার পূর্ব পাশে মো. আব্বাস আলী (৩৫)-এর বাড়িতে অভিযান চালায়। আব্বাসকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁর বাড়ি থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুপা খাতুন (৩২) পালিয়ে যান। পরে গ্রেপ্তার আব্বাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুপার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্বাস ও রুপার পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে একই দিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ জামালপুর এলাকায় মো. আয়নাল হকের (৫৩) ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৮ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আয়নালের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় মাদকসংক্রান্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে মতিহার থানার পুলিশ খোঁজাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত এক শিশুকে (ছদ্মনাম: নজরুল) গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা তিনটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৮০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ২২ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে চন্দ্রিমা থানার পুলিশ মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়া এলাকায় মো. জাহিদ ইসলাম ওরফে ইমন (২৫)-এর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে ১৮টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ২ হাজার ৫০ টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, ইমনের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় পেনাল কোড আইনে একটি মামলা রয়েছে।

এদিকে একই রাতে রাত ১১টার দিকে বোয়ালিয়া থানার পুলিশ খরবোনা নদীর ধার এলাকায় মো. সোহান আলী (২৩)-এর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৭০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: