
রুয়েট প্রতিনিধি:
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মতাদর্শে পরিচিত শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের পর এবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ঘটনা সামনে এসেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিয়েও শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) রুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চার শিক্ষার্থীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। কর্মসূচির আওতায় শহীদ মিনার, প্রশাসনিক ভবন, বেলতলা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হল, সেলিম হলসহ বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।
আয়োজকদের দাবি, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সিরিজের ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
কর্মসূচির আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের আর. এম. ফয়সাল আরাফাত, পুরকৌশল বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের এ. কিউ. এম. কায়েস বিন মাহবুব ও ওসমান বিন মাহফুজ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের আল শাহীদ সৈকত।
জানা গেছে, আয়োজকদের কেউই রুয়েট ছাত্রদলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই। তবে তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের আদর্শের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রুয়েটে ছাত্রদলের কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটিও নেই। এর আগে গত ১৯ আগস্ট ২০ সিরিজের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে একই পরিচয়ের দুই শিক্ষার্থীর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫২ একরজুড়ে ১৫২টি চারাগাছ রোপণ করা হয়।
রুয়েটে ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করা হয়। সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া হয়েছিল।
তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার মধ্যেই চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রুয়েটে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম, দেয়াল লিখন ও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার পরও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেন।
এদিকে, রুয়েটে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিয়েও শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যানারে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কার্যক্রম, এমনকি নবীনবরণের মতো আয়োজনও হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কমিটি না থাকা এবং সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের সংগঠিত ও প্রকাশ্য কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ ও তদারকিতে প্রশাসনের দৃশ্যমান কঠোরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
