আজ- রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুয়েট থেকে Stanford এ আতিক-রাবেয়ার সাফল্যের যাত্রা

by Prokash Kal

রুয়েট প্রতিনিধি:

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) দুই সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা Stanford University-তে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। তারা হলেন রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আতিক আহমেদ এবং রাবেয়া তুস সাদিয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।

রুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা মো. আতিক আহমেদ বর্তমানে Stanford University-তে Postdoctoral Scholar হিসেবে কর্মরত। Stanford-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি Radiation Physics-এ পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র Deep Learning, Multimodal Learning ও বাস্তব বিশ্বের ডেটাভিত্তিক AI সমাধান।

পিএইচডি পর্যায়ে University of Kentucky-তে Computer Science নিয়ে গবেষণা করেন আতিক ।তাঁর গবেষণাকর্মের পাশাপাশি তিনি প্রায় নয় মাস Google-এ ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন, যেখানে Multi-Agent Systems এবং Time-Series Forecasting নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ICML, AAAI, KDD, ECAI, Nature Communications, Information Fusion, Journal of Biomedical Informatics এবং Medical Image Analysis-এর মতো প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

অন্যদিকে রুয়েট CSE-এর ১৫ সিরিজের সাবেক শিক্ষার্থী রাবেয়া তুস সাদিয়া বর্তমানে Stanford University School of Medicine-এ Postdoctoral Scholar হিসেবে কাজ করছেন। রুয়েট থেকে Computer Science and Engineering-এ স্নাতক সম্পন্ন করার পর University of Kentucky থেকে Computer Science-এ PhD অর্জন করেন তিনি।

রাবেয়া তুস সাদিয়ার বর্তমান গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র Artificial Intelligence, Medical Imaging এবং Surgical Video Analysis। Stanford Medicine-এ তিনি চিকিৎসক, সার্জন ও গবেষকদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য হলো AI-কে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা, যাতে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা এবং রোগীর চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হয়।

রাবেয়ার মতে, Stanford-এ কাজের সুযোগ পাওয়ার পেছনে PhD পর্যায়ে AI ও Machine Learning নিয়ে গবেষণা, প্রকাশনা এবং তাঁর গবেষণার সঙ্গে Stanford Medicine-এর কাজের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েক ধাপের কারিগরি ও কোডিং ইন্টারভিউ এবং গবেষণা উপস্থাপনার পর তিনি Postdoctoral Scholar হিসেবে নির্বাচিত হন।

নিজেদের এই পথচলায় রুয়েটের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন রাবেয়া তুস সাদিয়া। তাঁর ভাষ্য, রুয়েট থেকেই Computer Science-এর মৌলিক ভিত্তি এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে PhD ও গবেষণার পথচলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানোর এই যাত্রা সহজ ছিল না। ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানের পরও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং নিজের দক্ষতার ক্রমাগত উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাবেয়া। বর্তমান রুয়েট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সে বলে —বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত পরিশ্রম করতে হবে, নিজের দক্ষতার ওপর কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং ব্যর্থতা বা প্রত্যাখ্যানে হতাশ না হয়ে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

রুয়েটের সাবেক দুই শিক্ষার্থীর Stanford-এ গবেষণার সুযোগ পাওয়া শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে AI ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও বাস্তব বিশ্বের জটিল সমস্যার সমাধানে তাদের কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: