আজ- বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহবাগে শিক্ষকদের অবরোধে পুলিশের লাঠিচার্জ

by Prokash Kal
১৬৭ views

প্রকাশকাল ডেস্ক:
রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিবন্ধিত নিয়োগ প্রত্যাশী ও সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিকের শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। দুপুর পৌনে ২টার দিকে সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আন্দোলনকারীরা।

এর আগে আজ সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে করে শাহবাগ দিয়ে চলাচল করা সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহবাগ মোড়ের বামপাশের সড়কে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এবং ডানপাশের সড়কে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধিত নিয়োগ প্রত্যাশীরা অবস্থান নিয়েছেন। আর চারপাশে অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এর মধ্যে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে রাখা হয়েছে একটি জলকামান এবং এপিসি।

এনটিআরসিএ’র নিবন্ধিত নিয়োগ প্রত্যাশী শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক জিএম ইয়াছিন বলেন, এনটিআরসিএ এখন পর্যন্ত ১৭টি নিয়োগ পরীক্ষার সুপারিশ করলেও মাত্র পাঁচটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছে। এতে প্রায় ১২-১৩ হাজার যোগ্য শিক্ষক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বহু নিবন্ধিত শিক্ষক একাধিকবার পরীক্ষায় পাস করেও চাকরির সুপারিশ পাননি। অথচ কিছু লোক আবেদন ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রাথমিকের নিয়োগ প্রত্যাশীরা বলছেন, আমাদের নিয়োগ বাতিল করে যে রায় দেওয়া হয়েছে সেটি বৈষ্যম্যমূলক৷ এই সরকারই আমাদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে। আবার আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এটি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা। আমরা চাই, দ্রুতই যেন এই রায় বাতিল করে আমাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন নিয়োগ বাতিল হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ ছয় হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট।

এর আগে ১৯ নভেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগপত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ায় আদালত এ আদেশ দেন।

গত ৩১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ৬ হাজার ৫৩১ জন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

গত ২৮ মে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগপ্রক্রিয়া ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট। এরপর মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণসংক্রান্ত হাইকোর্ট যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিক পরীক্ষা নেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে এই নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে আসা অভিযোগ অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: