আজ- বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ৫ দিন ধরে কলেজছাত্রীর অনশন 

by Prokash Kal
৪৮৫ views

 শাহান আলী, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রেমিকের কাছ থেকে বৈবাহিক স্বীকৃতি না পেয়ে প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনশন করছেন এক কলেজছাত্রী। গত পাঁচ দিন ধরে শাহজাদপুর উপজেলার রাউতরা গ্রামে প্রেমিকের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী আয়শা ইসলাম উর্মি। প্রেমিক রাকিব হাসান রাজ একই কলেজের শিক্ষার্থী এবং একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

আয়শা ইসলাম উর্মি উপজেলার পারকোলা গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে। অপরদিকে রাকিব হাসান রাজ রাউতরা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বাসিন্দা হিরুর পুত্র।

জানা গেছে, দেড় বছর আগে একই কলেজে অধ্যয়নকালীন সময়ে রাজ ও আয়শার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় “ইনসিয়া” রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের উপস্থিতিতে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে তারা বিয়ে করে বলে দাবি করেন আয়শা। বিয়ের কিছুদিন পর আয়শা গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২০ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ পিপিডি ট্রাস্ট হাসপাতালে গোপনে গর্ভপাত করানো হয়।

পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে সংসার শুরু করার কথা থাকলেও রাজ নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে আয়শা বিয়ের স্বীকৃতি দাবি করলে রাজ তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক অস্বীকার করে। এরপরই আয়শা চলমান এইচএসসি পরীক্ষার মাঝেই প্রেমিকের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করে অনশন শুরু করেন।

গত ২৯ জুন রবিবার সকাল থেকে রাজের বাড়ির সামনে অনশন শুরু করেন আয়শা। এ সময় রাজের মা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা দিয়ে পরিবারের সদস্যসহ আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে গেটের সামনেই চুলা-বিছানা বিছিয়ে অবস্থান করছেন আয়শা।

অনশনরত আয়শা ইসলাম উর্মি বলেন,

“রাজ আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন সে যদি আমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করে, তাহলে আমি এখানেই আত্মহত্যা করবো। আমি ন্যায়বিচার চাই।”

প্রেমিক রাজের বাবা হিরুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,

“এই মুহূর্তে তাদের বিয়ের প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে এখন এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে, মেয়েটির দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।”

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,

“মেয়েটি স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনশন করছে। কিন্তু ছেলেটি ও তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় কোনো সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে।”

এ ঘটনার ফলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন। Meanwhile, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় সামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক দিক থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: