আজ- মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজাদপুরে সাজানো নিলামে কলেজের ৪টি ভবন কম মূল্যে নিলামের অভিযোগ

by Prokash Kal

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ঐতিহ্যবাহী জামিরতা ডিগ্রি কলেজের ৪টি ভবন সাজানো নিলামে কম মূল্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এছাড়াও যথাযথ প্রক্রিয়া এবং নিয়মনীতি মানা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ১৮ নভেম্বর জামিরতা ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ পুরাতন ৪টি ভবন নিলামের মাধ্যমে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তবে সেই নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও যথাযথ নিয়ম মেনে হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অনুসরণ করা হয়নি সরকার নির্ধারিত নিলামের নিয়ম, স্বচ্ছ উপায়ে নিলাম হলে আরো বেশি মূল্যে বিক্রি করা যেত। এছাড়া ২টি ভবন পরিত্যক্ত তবে অপর ২টি ভবনে ক্লাস চলমান থাকলেও ৪টি ভবনকেই পরিত্যক্ত দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নিলামের ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা বেশী মূল্য হলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের কর, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রচার, উপজেলা জুড়ে মাইকিং করা ও কলেজে প্রকাশ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শনের নিয়ম থাকলেও সেগুলো অনুসরণ না করেই পছন্দমতো লোকজন দিয়ে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিলামের দিন জামিরতা ডিগ্রি কলেজে গিয়ে দেখা যায় নোটিশ বোর্ডটি না টাঙিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে, সাংবাদিকদের উপস্থিতির পরে বোর্ডটি টাঙিয়ে দেয় একজন কর্মচারী। পরে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হায়দার আলীর কক্ষে ঢুকে দেখা যায় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা স্বপন, যুবদল নেতা মালেক ও ইব্রাহিম সহ বেশকয়েকজন যুবদল নেতার উপস্থিত নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় ৩ জন। এরা হলো পোরজনা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লালচাঁদ ব্যাপারী ও ৪ং ওয়ার্ড যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন। এদের বাইরে পেশাদার কোন ক্রেতাকে নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

পরে ১ লক্ষ্য ৪২ হাজার টাকায় যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কার্যাদেশ দেয়া হয়।

এই বিষয়ে জামিরতা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন জুয়েল মুঠোফোনে জানান, সকল নিয়ম মেনে ও উন্মুক্তভাবে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই বিষয়ে জামিরতা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হায়দার আলী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন যথাযথ নিয়ম মেনে নিলাম করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন ভবন নিলামের যে পরিপত্র রয়েছে সেটা শুধু করকারি কলেজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমোদন নেয়া হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, এই বিষয়ে আমার কোন তথ্য জানা নেই। নিলামের নীতিমালা মানা না হয়ে থাকলে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: