আজ- মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ উদ্যোগের উদ্বোধন

by Prokash Kal
১১ views

এম এ রশিদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: 

বাংলাদেশ সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০ ঘটিকায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পাদদেশে অবিস্থিত, আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার সম্মুখে উপজেলার ১২৮টি সংগঠিত জনসংগঠন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের ২৫টি যুব সংগঠন, গ্রীণ কোয়ালিশন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক যৌথ আয়োজনে এ কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রির সভাপিত্তে¡ ও বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ শাহীন ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ শামসুজ্জাহান কণক। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোষিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, যুব নারী অনন্যা রাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক, কৃষক, যুব সংগঠনের সদস্য, জনসংগঠনের প্রতিনিধি ও বীজ সহায়তাকারী প্রমূখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ শামসুজ্জাহান কণক বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ উদ্যোগের সাথে সংহতি জানিয়ে উপক‚লীয় শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং উপক‚লের পরিবেশ, প্রাণ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই ্উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতার আহবান জানান। এছাড়াও তিনি কিছু স্থানীয় বীজ ও একটি বট গাছের চারা রোপণ করেন।

সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশন কমিটির উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্াস, নদীভাঙন এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের ১০ লক্ষ বীজ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ জলবায়ু অভিযোজনে গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে বীজ সহায়তাকারী রবিন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, দেশীয় জাতের এই ১০ লক্ষ বীজ রোপণ সফল করতে পারলেই সবুজ হবে উপক‚লী এবং পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাস গড়ে উঠবে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, মেহগনি, দেবদারু, আশফল, বট, কাঠবাদাম, পরশপিপুল, অর্জুনসহ স্থানীয় প্রজাতির মোট ৭ লক্ষ বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১১ সদস্যবিশিষ্ট বীজ রোপণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া কার্যক্রম চলমান থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, “আজকের একটি বীজই আগামী দিনের একটি শক্তিশালী বৃক্ষ। একটি বৃক্ষ শুধু সবুজের প্রতীক নয়; এটি কার্বন শোষণ করে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, মাটি ও নদীতীর রক্ষা করে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সৃষ্টি করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।”

বক্তারা উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজের সবস্তরের মানুষকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: