
রুয়েট প্রতিনিধি:
জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ২০২৬’। দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে জ্বালানি ও পরিবেশ খাতের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ, সম্ভাব্য সমাধান এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টায় রুয়েটের সিএসই সেমিনার কক্ষে সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন। এ সময় আইইইএসের পরিচালক ও সিম্পোজিয়ামের অর্গানাইজিং চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউ. এইচ. জোয়ার্দারসহ রুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ (আইইইএস) ও রুয়েট প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সিম্পোজিয়ামে জ্বালানি ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা উপস্থাপনের পাশাপাশি গবেষকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, সীমিত গবেষণা সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে এমন গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও সামাজিক উপযোগিতা রয়েছে। ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রচলিত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাই জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বিকল্প ও সবুজ জ্বালানির উন্নয়ন এবং ব্যবহার বাড়াতে গবেষণাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
সিম্পোজিয়ামে গবেষণাপত্রের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। আয়োজকরা জানান, এবারের আসরে ১৩০টি গবেষণাপত্র জমা পড়েছিল। পর্যালোচনা শেষে এর মধ্যে ৬১টি গবেষণাপত্র নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০টি সিম্পোজিয়ামের বিভিন্ন পর্বে উপস্থাপন করা হয়।
আইইইএসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানির উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণও ছিল সিম্পোজিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ। কীনোট সেশনে বক্তব্য দেন সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলস-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. নায়েফ এ. এ. কাসেম, চীনের হারবিন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, শেনজেন-এর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম এবং যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রিডার ইন ফ্লুইডস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস ড. এলদাদ আভিটাল।
তাদের উপস্থাপনায় বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন, বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা, নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা, পরিচ্ছন্ন প্রপালশন প্রযুক্তি এবং বিকল্প জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সিম্পোজিয়ামের সহযোগী পরিচালক ও সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মাহাদী হাসান মাসুদ বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল বিষয় মোকাবিলায় একাধিক গবেষণা ক্ষেত্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক গবেষকদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তার প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত করবে।
দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামে মোট আটটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন, প্রযুক্তিগত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিবেশ খাতের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় গবেষণা ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকদের মতে, রুয়েটে এমন আন্তর্জাতিক গবেষণা আয়োজন একদিকে জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ে গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করবে, অন্যদিকে দেশীয় গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষকদের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি হবে।
