
নিজস্ব প্রতিবেদক:
একদিকে ছয় বছরের শিশু মুনতাহা সিদরাতুলের জটিল স্নায়বিক রোগ, অন্যদিকে তীব্র পেটের ব্যথায় কাতর মধ্যবয়সী শরিফুল ইসলাম। দুজনেরই উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ভিসা জটিলতায় অনিশ্চয়তায় পড়েছিল তাঁদের চিকিৎসা। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত মেডিকেল ভিসার ব্যবস্থা করে দুই রোগীর পাশে দাঁড়িয়েছে রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন দপ্তরে গিয়ে মেয়ের চিকিৎসার জন্য জরুরি মেডিকেল ভিসার আবেদন করেন তানোর উপজেলার মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা মাহাতাব আলী মেহেদী। তাঁর ছয় বছর বয়সী মেয়ে মুনতাহা সিদরাতুল মস্তিষ্কের জটিল রোগে আক্রান্ত। দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত তাকে ভারতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
মাহাতাব আলী সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়ের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত মেডিকেল ভিসার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন সহকারী হাইকমিশনার।
মাহাতাব আলী মেহেদী বলেন, মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। দ্রুত ভিসা সহায়তা পাওয়ায় এখন মেয়েকে সময়মতো ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য তিনি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এদিকে একই দিন জরুরি চিকিৎসার জন্য ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে যান নগরীর রাজপাড়া থানার মিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভারতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে সহকারী হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মেডিকেল ভিসা সহায়তা পান তিনি।
দ্রুত ভিসা পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে শরিফুল ইসলামও ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে ভিসা প্রক্রিয়ায় দ্রুত সহায়তা করে দুই রোগীর পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে মানবিক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
