আজ- শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনের নানাভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

by Prokash Kal

এম এ রশিদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন ও ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সদস্য অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। তিনি জানান, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এসব অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
আত্মসমর্পণের সময় নানা ভাই বাহিনীর সদস্যরা জমা দেন—১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ারগান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ৮ মিমি তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। অপরজন আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল থানার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
জব্দ করা অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানায় কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যুর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
তবে যারা এখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কোস্ট গার্ড।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণভাবে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: