আজ- সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ দিনের লড়াই শেষে না ফেরার দেশে রুয়েট শিক্ষার্থী 

by Prokash Kal

রুয়েট প্রতিনিধি:

পাঁচ দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ার। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মাদানি এভিনিউয়ে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ দিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন রাফিদ। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান।

চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় রাফিদের মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লাগে। তার হাইপোথ্যালামাসে ব্যাপক ক্ষতি এবং মস্তিষ্কের বাম অংশে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। নিউরোসার্জনদের মতে, মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় ওই অংশের নিউরনগুলো আর কাজ করছিল না এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারেরও সুযোগ ছিল না।

এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন রাফিদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় সেটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে রাফিদ নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে সড়কের ডিভাইডারে মাথায় আঘাত পান।

দুর্ঘটনার পর সহপাঠী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, মাথায় আঘাতের কারণে রাফিদের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধে এবং তিনি গভীর কোমায় চলে যান। তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর রুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকারসহ একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য রাফিদকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রুয়েট প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। ওইদিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাফিদের চিকিৎসার জন্য রুয়েট প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। সরাসরি সহায়তার পাশাপাশি অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমেও অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা এবং পরিবার ও সহপাঠীদের নানা উদ্যোগের পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের সিএসই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার আইডি নম্বর ২১০৩০৯৫। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা।

তার অকাল মৃত্যুতে রুয়েট ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে বিষাদের আবহ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: