
নিজস্ব প্রতিবেদক :
তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহীর বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। শহর ও গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। পাশাপাশি বিদ্যুৎনির্ভর কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্পকারখানার কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, রাজশাহী শহর এলাকায় প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে চার ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন অনেক পরিবার।
বিদ্যুৎ–সংকটে সমস্যায় পড়েছেন কৃষকেরাও। সেচকাজে ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি চালাতে না পারায় শ্রমিকদের কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ ঘাটতিকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজশাহী জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং না দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তাঁদের।
