আজ- সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ‘মূল্য’! রাবি ছাত্রীকে পদ্মার পাড়ে নিয়ে অস্ত্রের ভয়, নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ

by Prokash Kal
views

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগটি সামনে আসার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগীও একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে ওই শিক্ষার্থী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার বিকেলে মহসিন আলম জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তিনি একটি ছুরি বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং নিজের কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও দাবি করেন। পরে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত প্রথমে তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেও পথে আবার পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। দীর্ঘ সময় মানসিক নির্যাতনের পর তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে মোবাইল ফোনে আত্মহত্যার কথা বলে যোগাযোগ করেন অভিযুক্ত। একই সঙ্গে অভিযুক্তের এক সহযোগী বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সংগঠনটির নেতারা এ দাবি অস্বীকার করেছেন। শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মহসিন আলম অতীতে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকলের জবাব দেননি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে ডাকা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

You may also like

Leave a Comment

শিরোনাম: